Wednesday, March 11, 2015

বীরাঙ্গনা


tv তে একটা বিজ্ঞাপন দেখাচ্ছে, এক ইনজেকশন এ ভয় পাওয়া লোকের।.ইনজেকশন এ আমিও ভয় পাই, চিরকাল ই পেতাম।.ক্লাস নাইনে একবার পরে গিয়ে হাঁটু ফেটে হাঁ হয়ে গেছিল , ডাক্তার সেটাকে স্টিচ করতে হবে বলায়  ডাক্তার এর বাড়ির সামনে চিত্কারে লোক জড়ো হয়ে গিয়েছিল এই ভেবে যে কাউকে বোধ হয় মারা হচ্ছে বুঝি।

কিন্তু এটা ভয়ের গল্প নয়, এটা বীরত্বের গল্প।
 এই গপ্প টা  শুরু বুস্টার ইনজেকশন এর পূর্বনির্ধারিত দিনের মাস খানেক কি তারও আগে।  তিন বছর বয়সে যে লাস্ট ইনজেকশন নিয়েছিলাম তাতে পান্ডুর railway hospital এর দেয়াল গুলো ভুমিকম্পপ্রবণ জায়গার ইসপেশাল দেওয়াল না হ'লে ভেঙ্গেই পড়ত।  কাজেই এই বার মা মাসখানেক আগে থেকেই আমায় বলা শুরু করল যে এক মাস বাদে আমাদের হাসপাতালে যেতে হবে আর আমায় মুখে ওই পালস পোলিও ড্রপ এর মতো একটা কিছু মুখে দিয়ে দেবে। রোজ ই সন্ধ্যে বেলায় ঘুরে ফিরে মা আগামী হাসপাতাল অভিযান এর গল্প বলে , প্রথমে আমরা হাসপাতাল যাবো , তারপর সেখান থেকে বেরিয়ে চিড়িয়াখানায় বেড়াতে যাব, ইত্যাদি ইত্যাদি। এখনকার বুদ্ধি হলে সামান্য দুটো পচা অসুধ খাবার জন্য এত গপ্প শুনলেই  বুঝে যেতাম যে কিছু গোলমাল নিশ্চই আছে, কিন্তু বয়স তখন অল্প, কাজেই এত গল্প শুনে বেশ উত্তেজিত মনে হাসপাতাল অভিযানে  গেলাম।  বোসে আছি নার্স এর ঘরে, আমার মুখ হাসি হাসি, নার্স ঢুকেই বলল বাহ্ এত খুশি মনে ইনজেকশন  নিতে আসতে আমি কোনো বাচ্চা কে দেখিনি। মা পাশ থেকে বলল এরপর আমরা চিড়িয়াখানা যাবতো  তাই আমরা খুব উত্তেজিত।  আমি একবার মার মুখের দিকে একবার নার্স এর মুখের দিকে তাকাচ্ছি। ঠিক বিশ্বাস হচ্ছেনা ব্যাপারটা।   একবার তো লজ্জার মাথা খেয়ে জিজ্ঞাসা করেই ফেললাম, এটা ইনজেকশন, মুখে ড্রপ নয়? ব্যাস, confirmed , কোনো নিস্তার নেই। কিন্তু একবার সাহসী খুশি বাচ্চার সার্টিফিকেট পাওয়া ইমেজ থেকে তো আর বেরিয়ে আসা যায়না বাইরের লোকের কাছে, অগত্যা ........ .

কেটে ছ'রে গেলে titanus নিতে তো আর একমাসের প্রস্তুতি পাওয়া  যায় না, কাজেই তখন আমার ভয় পাওয়ায় এবং চিত্কার এ কিন্তু কোনো বাধা নেই।